বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড
বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড পাচ্ছেন ঘরে বসে সরাসরি অনলাইন থেকে কোন ইনভেসমেন্ট ছাড়া আপনি ঘরে বসে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করতে পারবেন।
ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার জন্য প্রথমেই কিছু কৌশলগত সিস্টেম জানা প্রয়োজন যা আপনার ব্যবসাকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিবে আশা করি।
পেজ সূচিপত্রঃ বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড
- বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড
- দুইটি সহজ ড্রপশিপিং বিজনেস প্ল্যান
- ড্রপশিপিং ব্যবসার স্টীমালাইন করার কৌশলগত নিয়ম
- ড্রপশিপিং বিজনেস করতে কি কি লাগে
- বাংলাদেশের সেরা ১৩টি ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট
- ড্রপশিপিং ব্যবসা থেকে সহজ উপায়ে ইনকাম করা ও টাকা নিজে একাউন্টে ট্রান্সফার করার নিয়ম
- ড্রপশিপিং ব্যবসার সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ
- বাংলাদেশের ড্রপশিপিং ব্যবসার কোর্স
- জিও ড্রপশিপিং ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সহায়ক হাতিয়ার
- নতুনরা ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার প্রথমে যে সাতটি ভুল করে
- ড্রপশিপিং ব্যবসায় বাস্তবিক অর্থে লাভ ও আয় এর হিসাব
- শেষ কথাঃ বাংলাদেশের ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড।
বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড
বাংলাদেশে ড্রপ শিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ সহজ একটি গাইডলাইন হলো যেকোনো
পণ্যে নিজের কাছে মজুদ বা স্টক না রেখে অনলাইনের প্ল্যাটফর্ম থেকে সহজেই ড্রপ
শিপিং বিজনেস শুরু করা যায়। কোন পণ্য গুদাম ছাড়াই অল্প কিছু পুঁজি নিয়ে
অনলাইনে ব্যবসা করা সব থেকে জনপ্রিয় মাধ্যম। অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে কোন
একটি পণ্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে পাইকারি মূল্যে নিয়ে গ্রাহক বা
কাস্টমারকে একটু বেশি দামে বিক্রি করে যে যে টাকা হয় সেই টাকা থেকে
পাইকারি মূল্য বাদ দিয়ে যা থাকে তাই ড্রপ শিপিং বিজনেস।
বাংলাদেশ ড্রপ শিপিং ব্যবসা শুরু করার কিছু গাইডলাইন হলো অনলাইন প্লাটফর্ম
নির্বাচন করা যেমন ওয়েবসাইট, ফেসবু্ক, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম,
টেলিটক ইত্যাদি। অনলাইন মার্কেটিং অনলাইন থেকে কোন পণ্য ক্রয় বিক্রয়
করার জন্য যে মাধ্যমগুলি ব্যবহার করা হয় তাকে অনলাইন মার্কেটিং বলে। অনলাইন
মার্কেটিং করার জন্য ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন ও ফেসবুক টিকটকে বিজ্ঞাপন প্রচার
করতে হয় এবং এর মাধ্যমেই মানুষের কাছে পণ্যের প্রচার হয় ও গ্রাহকতা ক্রয়
করে।
পণ্য বাছাই করা যেমন যেকোনো নির্দিষ্ট একটি ক্যাটাগরির পণ্য নিয়ে ড্রপ শিপিং
বিজনেস করা ভালো কারণ ট্রেন্ড ও পণ্যের ব্যান্ড বাড়াতে চাইলে অনেক রকম পণ্য
নিয়ে কাজ না করাই ভালো। অর্ডার প্রসেসিং হল যে কোন পণ্যের অর্ডার পেলে সাথে
সাথে সরবরাহকারীর মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে দিন ক্রেতার নিকট,
এতে বিশ্বস্ততা বাড়বে এবং আপনার ব্যবসায় তাড়াতাড়ি সফলতা আসবে।
ড্রপ্সহিপিং কি?
অনলাইন ব্যবসা যেখানে বিক্রেতা নিজের কাছে কোনো পণ্য স্টকে না রেখেই তা বিক্রি করতে পারে।
ড্রপশিপিং এর সুবিধা?
অধিক পরিমান পুঁজি লাগে না ও ব্যবসার ঝুকি কম।
ড্রপশিপিং কি হালাল ব্যবসা?
পণ্যের ধরন যদি হালাল হয় তবে অবশ্যই ব্যবসা হালাল হবে।
ড্রপশিপিং ব্যবসায় শুরুতে কী কী লাগে?
অনলাইন স্টর,সঠিক পণ্য,বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় কয়টি ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট?
শপবেইজ বিডি,ইজিড্রপ,উদ্যোগ ড্রপ্সহপ।
দুইটি সহজ ড্রপ শিপিং বিজনেস প্ল্যান
প্রথমটি হলো ট্রেন্ডিং বা সাধারণ পণ্যের বিজনেস। ছোট ব্যবসা বা অল্প পুঁজির
ব্যবসার জন্য আপনি একটি সম্পূর্ণ basic shopify স্টোর তৈরি করে ড্রপ শিপিং
বিজনেস শুরু করতে পারেন। ট্রেন্ড জাতীয় পণ্য নিয়ে আকর্ষণের ছবি ও ভিডিও
করে ফেসবুক ইউটিউব ও ওয়েবসাইটে উপস্থাপন করার মাধ্যমে ড্রপ শপিং বিজনেস
করা হয়। পণ্যের মার্কেটিং করতে হবে খুব লোভনীয় আকারে যাতে দেখামাত্রই মানুষের
নজরে পড়ে পণ্যটি আপনার অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে ক্রয় করতে আগ্রহী হয়।
বর্তমান মার্কেটে কোন জিনিসটা ট্রেনিং সে বিষয়টা মাথায় রেখে সস্তা কিন্তু
দেখতে আকর্ষণীয় এমন ধরনের পণ্য ড্রপ শিপিং এর জন্য বাছাই করতে হবে।
যেমন কাস্টমার টি শার্ট ,হাতের কাজ করা থ্রি পিস ,চুরি, ফিতা, লেজ, কাকড়া, গজ
সিট কাপড় ইত্যাদি ইত্যাদি এমন ধরনের পণ্য বাছাই করুন সেসব মানুষের কাছে
বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেওয়া যারা অনলাইন থেকে পণ্য ক্রয় করে থাকে। ক্রয়
করা পণ্যের গ্রাহকের কাছ থেকে রিভিউ নিয়ে ভিডিও তৈরি করে তা আপনার
ফেসবুক ওয়েবসাইটে টিকটকে ছাড়তে পারেন এতে মানুষের বিশ্বস্ততা বাড়বে আপনার
ব্যবসা ভালো হবে।
দ্বিতীয় পণ্যটি হলো নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির একটি ভালো মানের পণ্যের উপরে বিজনেস
করা। আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট পণ্যকে নিয়ে ড্রপ শিপিং বিজনেস করেন তাহলে আপনার
সেই পণ্যটিকে একটি ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত করতে পারবেন যা আপনার ওয়েবসাইট ও
অনলাইন প্লাটফর্ম গুলো মানুষের কাছে বেশি পৌঁছাবে এবং সবাই আকৃষ্ট হবে আপনার
পণ্য ক্রয় করার জন্য। আপনি কোন ধরনের ব্যবসা করতে চান দেশের মধ্যে নাকি
আন্তর্জাতিকভাবে বিজনেস করতে চান তা আমাকে জানালে আমি আপনাকে কিছু
নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি গাইডলাইন বলে দিতে পারি।
ড্রপশিপিং ব্যবসার স্টীমালাইন করার কৌশলগত নিয়ম
বাংলাদেশের ড্রপ শিপিং ব্যবসার স্ট্রিমালাইন করার মানে হল কম পরিশ্রমে এবং কম
সময়ে ব্যবসাকে সহজগতিশীল করা ও অধিক মুনাফা অর্জন করা। একটি ব্যবসাকে সফলভাবে
স্ট্রিমালাইন করার জন্য কিছু কৌশলগত নিয়ম মেনে চলা অনেক প্রয়োজনীয় একটি
বিষয়। ড্রপ শিপিং ব্যবসায় অটোমোশন সফটওয়্যার টুলগুলো ম্যানুয়ালি কাজের জন্য
ব্যবহার করা অনেক প্রয়োজনীয়। অর্ডার প্রসেসিং ও ইনভেন্টরি সিল্ক এর কাজ করার
জন্য যে ধরনের টুল ব্যবহার করা এতে সময়ের অপচয় কম হয় এবং সমস্যার সমাধান হয়
তাড়াতাড়ি।
ড্রপ শিপিং ব্যবসা একটু গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাপ্লাই নির্বাচন করা আপনার পণ্য
যদি আপনি যত তাড়াতাড়ি গ্রাহকের নিকটে পৌঁছে দিতে পারেন তা নির্ভর করে
বিশ্বস্ত প্রিমিয়ার সাপ্লাই কেমন হবে তার ওপরে। আপনি একটি পণ্য যদি ডেলিভারি
দিতে দশ দিন সময় ব্যয় করেন তাহলে আপনার ব্যবসায় মানুষ বিশ্বাস করবে না আপনার
ব্যবসা সুনাম নষ্ট হবে। তাই ব্যবসার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী সাপ্লাই
বাছাই করতে হবে যে আপনার পণ্যকে তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে ডেলিভারি দিতে পারবে
ক্রেতার নিকটে। এতে আপনার ড্রপ শিপিং ব্যবসা ভালো হবে এবং ব্যবসার সফলতা আসবে।
ড্রপ শিপিং ব্যবসা গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর কত তাড়াতাড়ি দেওয়া হয় তা আপনার
ব্যবসায় গ্রাহককে কতটা ইম্পরট্যান্ট দেয় তা নির্ভর করে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার
ওপরে। হেল্প ডেক্সট ফুল ব্যবহার করে আপনি চাইলে ওয়েবসাইট ফেসবুক পেজ টিকটক ও
হোয়াটসঅ্যাপে এস এম এস বা বার্তাগুলো এক জায়গায় দেখার জন্য zendesk ব্যবহার
করতে পারেন ।
আপনার ওয়েবসাইটে এফএকিউ পেজ ব্যবহার করে আগে থেকেই আপনি শিপিং এর সময়
ডেলিভারি সময় রিটার্ন পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
ওয়েবসাইটে দিয়ে রাখতে পারেন। এতে আপনার সাপোর্ট টিকিটের সংখ্যা প্রায় ৩০%
কমে যাবে। আরো একটি কাজ করতে হবে তা হলো সাপ্লায়ার রিটার্ন পলিসির সাথে মিল
রেখে আপনার ওয়েবসাইটের রিটার্ন পলিসি তৈরি এতে কাস্টমারের বুঝতে সুবিধা হবে।
গ্রাহক বা কাস্টমারের জন্য বিশ্বস্ত পেমেন্ট অপশন রাখুন।
ড্রপশিপিং বিজনেস করতে কি কি লাগে
বিজনেস শুরু করার জন্য সর্বপ্রথম যা প্রয়োজন তা হল পণ্য ও অল্প কিছু পুঁজি বা
মূলধন। এমন একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড বা ভাল পণ্য বাছাই করে নিতে হবে যা চাহিদা
কিছুটা কম এবং দামে সস্তা। এমন ধরনের পণ্যকে আপনি ভালোভাবে কাস্টমাইজ করুন যাতে
গ্রাহকের পছন্দ হয়। অন্যের বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য বা পণ্য বিক্রি করার জন্য
আপনার প্রয়োজনে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য যে ডোমেইন বা হোস্টিং কেনা
লাগবে তা মার্কেটিং করার জন্য অল্প কিছু টাকার প্রয়োজন।
দ্বিতীয়টি হল সাপ্লায়ার। বিশ্বস্ত সাপ্লায়ার আপনার পণ্যটিকে ভালোভাবে
ক্রেতার নিকটে পৌঁছে দিবে। এতে আপনার ব্যবসার বিশ্বস্ততা বাড়বে এবং গ্রাহকের
সঙ্গে আপনার ব্যবসার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হবে ও দ্বিতীয়বার সে আপনার কাছ
থেকে কোন সরবরাহ করার চেষ্টা করবে। তাই অনলাইন প্লাটফর্মে গ্রাহকের প্রশ্নের
উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন দ্রুত এবং গ্রাহকের সঙ্গে বন্ধুত্ব সম্পর্ক রাখার
চেষ্টা করবেন।
ড্রপশিপিং মার্কেটিং একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আপনার ব্যবসার সাফল্য এনে দিবে।
আপনার ব্যবহৃত অনলাইন প্লাটফর্ম গুলোতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এসইও এবং
ওয়েবসাইট বিজ্ঞাপন ইনফুলুয়েন্সর মার্কেটিং করা মাধ্যম ড্রপ শিপিং ব্যবসার একটি
গুরুত্বপূর্ণ দিক। মার্কেটিং করার জন্য আকর্ষণীয় ভিডিও কনটেন্ট ব্লগ প্রচার
করে অডিয়েন্স বা গ্রাহকের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়ে তুলতে হবে।
বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং করার চেষ্টা করুন গ্রুপ
শিপিং ব্যবসা সফলতা আসবে।
বাংলাদেশের সেরা ১৩টি ড্রপশিপিং ওয়েবসাইট
- ShopBase BD
- EasyDrop
- Dropshop
- Dropshipping.com.bd
- DropShop(BDSHOP.COM)
- DropupSeller
- Daraz
- Dhaka Traders
- MayonsBd
- ShopUp
- Banglashippers
- ShwapnoBangla
- Justchinait
- easydrop.asia
ড্রপশিপিং ব্যবসা থেকে সহজ উপায়ে ইনকাম করা ও টাকা নিজে একাউন্টে ট্রান্সফার করার নিয়ম
ড্রপ শিপিং ব্যবসা থেকে সহজ উপায়ে ইনকাম করার জন্য প্রধান উপায় হল সরবরাহকারী
প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য সেল করা। অন্য সাপ্লাই এর পণ্য নিজের ওয়েবসাইট বা অনলাইন
প্লাটফর্ম থেকে বেশি দামে বিক্রি করে যে টাকা আসবে তা আসল দাম থেকে বাদ
দিয়ে যা থাকবে সেই টাকায় আপনার প্রফিট। প্রফিট থেকে মার্কেটিং খরচ ও
ডেলিভারি খরচ সব বাদ দিয়ে যথেষ্ট প্রফিট থাকবে। মূলধন ছাড়া ড্রপ শিপিং
ব্যবসা থেকে সহজ ব্যবসা আর নেই। সকল ধরনের ব্যবসা করার জন্যই মূলধন থাকা
চাই। ড্রপ শিপিং ব্যবসায় সব থেকে সহজ উপায়ে ইনকাম করা যায়।
ড্রপ শিপিং ব্যবসা টাকা নিজে একাউন্টে ট্রান্সফার করার নিয়ম। যেহেতু আমরা
বাংলাদেশের মধ্যে ড্রপ শিপিং ব্যবসা করব তাই বিকাশ নগদ রকেট ও ব্যাংকের
ট্রান্সফার করার নিয়ম। ব্যাংক বা বিকাশ নগদে টাকা ট্রান্সফারের নিয়ম হলো আপনার
ওয়েবসাইটে প্রেমেন্ট গেটওয়ে বিকাশ নগদ নাম্বার দেওয়া থাকলে খুব সহজেই গ্রাহক
আপনার নগদ বিকাশে টাকা প্রেমেন্ট করতে পারবে। আর যদি কোম্পানির বা
সরবরাহকারীর বিকাশ নগদ নাম্বার দেওয়া থাকে তবে তা সরাসরি সরবরাহকারে একাউন্টে
চলে যাবে।
বাংলাদেশ ড্রপ শিপিং ব্যবসায়ী বেশিরভাগ ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য
গ্রাহকের নিকটে পৌঁছে দিয়ে থাকে। ক্যাশ অন ডেলিভারির জন্য পাঠাও বা
রেডএক্স এর মত অ্যাকাউন্ট খুললে ভালো হয়। গ্রাহক হাতে পণ্য পেয়ে টাকা
ডেলিভারি ম্যান এর কাছে পরিশোধ করে দেয়। ড্রপশিপিং ব্যবসা টাকা হারানোর কোন
ভয় নেই কারণ ক্যাশ অন ডেলিভারি বা ডেলিভারি চার্জ দিয়ে গ্রাহক আপনার
নিকটে পণ্য ক্রয় করবে।
ড্রপশিপিং ব্যবসার সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ
ড্রপ শিপিং ব্যবসার সুবিধা সমূহ
- কম মূলধন বা কম খরচেই হয়
- ব্যবসায়িক মডেল কম খরচে পাওয়া যায়
- লো ওভারহেড দেয় কম
- সব সময় পরিষেবা প্রদান করা যায়
- পণ্য গুদামজাত করার ঝামেলা নেই
- ব্যবসা বাড়ানোর জন্য সহজ
- শিপিং বা প্যাকেজিং খরচ কম
- অনেক পণ্য নির্বাচন করা যায়
- ইনভেন্টরি ঝুঁকি নেই বললেই চলে
- রিক্স কম
- কাস্টমার সার্ভিস নিজেই দেওয়া যায়
- পন্যর পরিবর্তন করা যায়
- শিপিং জটিলতা ও শিপিং সময়ের উপরে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই
- ইনভেন্টরি ইস্যু সমস্যা হয়
- কম মার্জিন বা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়ী
- সরবরাহকারী ত্রুটি হয়
- ব্র্যান্ড তৈরিতে অসুবিধা হয়
- অনলাইন বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকতে হয়
- অবিশ্বস্ত ড্রপ শিপিং সরবরাহকারীদের চিহ্নিত
- নিরাপত্তা ঝুঁকি
- বিক্রেতার অধিক্য
- কম মনোযোগ কাল
- রক্ষণাবেক্ষণ এর সমস্যা
- কম লাভ
ড্রপ শিপিং ব্যবসা সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই আছে। কারণ প্রতিটা কাজের বিপরীত
প্রতিক্রিয়া থাকে কিছু না কিছু। ড্রপ শিপিং ব্যবসা এটাই সুবিধাজে কোন টাকা
পয়সা ছাড়া কাজ করা যায়। শুধুমাত্র অনলাইন প্লাটফর্মে অন্যের পণ্য নিয়ে
নিজের অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে আপনি পণ্যগুলো সেল করে ব্যবসা করতে পারেন।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই বেকার। বেকারত্ব দূর করতে আমাদের সবার উচিত নিজের
কিছু করা। শিক্ষার্থীরাও এই ব্যবসা করতে পারে এবং নিজের খরচ নিজেই চালাতে পারে।
বাংলাদেশের মতন এই দরিদ্র দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে প্রত্যেকটা মানুষকে
কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং সমাজ ও দেশের কল্যাণের কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশের ড্রপশিপিং ব্যবসার কোর্স
বাংলাদেশে সেরা ড্রপশিপিং কোর্সের মধ্যে আমার জানামতে ছয়টি প্রতিষ্ঠান সেরা।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো ড্রপ শিপিং কোর্সের মধ্যে আপনাকে কিভাবে একটি সফল লোক শিপিং
ব্যবসা দাঁড় করানো যায় তা হাতে কলমে শিখিয়ে দিবে এবং ব্যবসার সকল ধরনের
গাইডলাইন দিবে। একটা জিনিস কখনোই নিজে নিজে করা যায় না কোন না কোন মাধ্যম থেকে
শিখে নিতে হয়। তিন থেকে চার মাসের এই কোর্সটি করে আপনি চাইলে এই ড্রপশিপিং
বিজনেসটাকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন।
সেরা ছয়টি ড্রপ শিপিং কোর্সের প্রতিষ্ঠানের নাম হলো
- 360academybd.com
- sevenstarsbd.com
- MSB Academy
- eShikhon.com
- The Knowledge Academy
- Global professional IT
এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আপনি চাইলে যে কোন প্রতিষ্ঠানে ড্রপ শিপিং ব্যবসার
কোর্সটি কমপ্লিট করতে পারেন। পরিবারের উপরে নির্ভর না হয়ে নিজে কিছু করার
চেষ্টা করুন আর সেটা সেই মাধ্যমটা যদি এই ড্রপ শিপিং ব্যবসা তাহলে খুবই ভালো
কারণ কোন প্রকার মূলধন ছাড়াই আপনি এই ব্যবসা করতে পারবেন। তাই গরিব বড়লোক
মধ্যবিত্ত সবাই এই ব্যবসা করতে পারবে।
জিও ড্রপশিপিং ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সহায়ক হাতিয়ার
জিও হচ্ছে ড্রপ শিপিং ব্যবসার জন্য যে বিভিন্ন টুল ব্যবহার করা হয় তার নাম।
জিও ড্রপশিপিং ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সহায়ক হাতিয়ার।
জিওর টুল ব্যবহার করে নতুন ড্রপ শিপিং ব্যবসায়ীরা বিনা পুঁজিতে ব্যবসা শুরু
করার একটি নতুন ও দারুন মাধ্যম। জিও টুল ব্যবহারের মূল সুবিধা সমূহ হলো এক
টাকাও ইনভেস্ট করা লাগবে না আগে থেকেই পণ্য গুদাম করতে হবে না।ক্রেতা বা গ্রাহক
পণ্য অর্ডার করলেই কেবল সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য কেনা হয়।
জিও টুল ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ওয়েবসাইট থেকে ক্রেতার
নাম ও ঠিকানা সরবরাহকারীর কাছে চলে যাবে যার ফলে আপনার সময় কম অপচয় হবে। সঠিক
জিও টুল ব্যবহার করার ফলে নতুনদের কাছে ড্রপশিপিং ব্যবসা অনেক সহজ হবে।যারা
ড্রপশিপিং ব্যবসা করতে চান তারা এই জিও টুলের ব্যবহার সব থেকে প্রয়োজনীয় এবং
তাদের অনেক সাহায্য করবে এই জিও টুল।
নতুনরা ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার প্রথমে যে সাতটি ভুল করে
বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার প্রথমে নতুনরা যে ৭টি ভুল গুলো করে থাকে
প্রথমে তা হলো
১।সঠিক পণ্য বা প্রোডাক্ট নির্বাচন করা ভুলঃবাজার বা ক্রতার চাহিদা চাহিদা
যাচাই না করে নিজের পছন্দ মতো পণ্য বাছাই করে নিলে তখন বিক্রি না হয়লে ব্যবসার
লস হবে।তাই পণ্য বছাই করতে হবে বাজার চাহিদা অনুযায়ী ।যে পণ্যের দীর্ঘমেয়াদি
চাহিদা নেই ,সাময়িক টেন্ডের ওপর নির্ভর করে সেই পণ্য বাছাই করলে স্টক আটকে
যাওয়ার ঝুকি থাকে।সঠিক ও লাভজনক মূল্য নির্ধারন না করলে ব্যবসার খরচ উঠবে না ।
২।সঠিক সাপ্লায়ার নির্বাচন করা ভুলঃব্যবসায় ভুল সাপ্লায়ার নির্বাচন করা সব থেকে
বড় একটা ভুল।কারন সাপ্লায়ার যদি পণ্য দেরিতে দেলিভারি দেয় ,পণ্যের খারাপ মান এবং
কাস্টমার হারানোর মতো বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।তাই একাধিক সাপ্লায়ার রাখে একজন
সাপ্লায়ার উপর নির্ভরশীল না হওয়া,যার ফলে হঠাৎ সাপ্লায়ার পরিবর্তন করতে হলে
ব্যবসার বড় সমস্যা না হয়।
৩।কাস্টমার সার্ভিস খারাপ দেওয়াঃকাস্টমার সার্ভিস যদি খারাপ হয় ব্যবসার এমন একটা
পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে প্রতিষ্ঠানের সেবা বা সহায়াতা গ্রাহকের প্রত্যাশা
পূরনের ব্যর্থ হয় এবং এতে ব্যবসাইয় নেতিবাচক অভিজ্ঞতার জন্ম দেয়।ফোন কল বা এসএমএস
দীর্ঘ সময় উওর না করে থাকা যাবে না ।যত তারাতারি উওর দিতে হবে।গ্রাহকের মতামতকে
গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ফিডব্যাক লুপ তৈরি করা।
৪।পণ্যের সঠিক মার্কেটিং না করাঃআপনি যদি পণ্যের সঠিক মার্কেটিং না করেন তা হলে
ব্যবসার বিক্রিয় হ্রাস পাবে ও ব্যান্ডের পরিচিতি হবে না এবং শেষ পর্যন্ত ব্যবসা
বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।পণ্যের সঠিক মার্কেটিং করতে হবে এবং পণ্যকে
আকর্ষনীয় ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
৫।কপি পেস্ট প্রোডাক্ট ব্যবহার করাঃই-কমার্স বা শপ ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো
পণ্য বা প্রডাক্টের তথ্য হুবহু নকল করা বা ডুপ্লিকেড করে নতুন প্রডাক্ট তৈরি করে
বিক্রি করা হলো কপি পেস্ট প্রডাক্টে ।এতে আপনার ব্যবসার ক্ষতি হবে ও মামলা হতে
পারে আপনার নামে কপি পেস্ট এর ।তাই আমরা এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবো।
৬।ব্যবসায় ধৈর্য হারিয়ে দ্রুত হাল ছেড়ে দেওয়াঃব্যবসায় ধৈর্য হারিয়ে দ্রুত হাল
ছাড়া যাবে না ।একবার না পারলে বার বার চেষ্টা করতে হবে এবং সফলতা আসবেই এক
সময়।ব্যবসার প্রথমে কঠিন সময় আসবে জন্য কি ধৈর্য হারিয়ে বসে থাকতে হবে ।না
ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্ততুত রাখতে হবে।নিজের মানসিকতার
পরির্বতন করতে হবে।নতুন নতুন সৃজনশীল চিন্তাভাবনা করতে হবে।
৭।ওয়েবসাইট ডিজাইন না করাঃআকর্ষনীয় ভাবে ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে হবে ও ওয়েবসাটকে
মোবাইল ফেন্ডলি করে রাখতে হবে।ভালো SEO করতে হবে ।
ড্রপশিপিং ব্যবসায় বাস্তবিক অর্থে লাভ ও আয় এর হিসাব
| Parameter | Value |
|---|---|
| Supplier price | 5oo tk |
| Selling price | 950 tk |
| Delivery & Add cost | 150/200 tk |
| profit | 200/300 tk |
যদি একটা পণ্য বিক্রয় করে ৩০০ টাকা প্রফিট হয়। তবে এক দিনে যদি গড়ে ২০ টা অর্ডার
আসে তাহলে মাসিক প্রফিট এর নিজেই দেখে নিন নিচে ।
একটা পণ্যে প্রফিট ৩০০ টাকা
২০টা পণ্য থেকে এক দিনে প্রফিট ৩০০×২০
=৬০০০
এক দিনে প্রফিট ৬০০০ টাকা হলে এক মাসে প্রফিট হবে ৬০০০×৩০
=১৮০,০০০ টাকা (প্রায়)
একটা সফল ড্রপশিপিং ব্যবসা সফল হতে পারলে প্রায় মাসে ১৮০,০০০ হাজার টাকা আয় হবে
সব খরচ বাদ দিয়ে ।
শেষ কথাঃ বাংলাদেশের ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড।
বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার জন্য সর্বপ্রথম যা প্রয়োজন তা হলো একটি নিস
বা লাভজনক ক্যাটাগরির পণ্য বাছাই করা ।সাথে নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত সরবরাহকারি খুজে
বের করা ।ড্রপশিপিং ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যেখানে আপনাকে পণ্য কিনে গুদামজাত বা
স্টকে রাখতে হবে না।গ্রাহক অর্ডার করলে সরাসরি আপনি সরবরাহকারির কাছ থেকে পণ্য
নিয়ে গ্রাহকের নিকটে পৌছে দিতে পারবেন ।ড্রপশিপিং বিজনেস সামান্য কিছু মূলধন নিয়ে
ব্যবসা শুরু করতে পারবেন।
বর্তমান যুগে অনলাইনে সকল ধরনের ক্র্য-বিক্রয় করা হয়।তাই বেকার ঘরে বসে না থেকে
নিজে উদ্যোক্তা হয়ে আপনি ব্যবসা করতে পারেন। কারন ড্রপশিপিং ব্যবসায় অধিক পরিমান
মূলধন প্রয়োজন হয় না । বেকারত্ব দূর করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করুন
এবং নিজের পরিবারকে সচ্ছলভাবে চলার সহায়তা করুন ও নিজে প্রতিষ্ঠিত হন।ভালো
থাকুন।সুস্থ থাকুন।


কনাজোননীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url