দুধ থেকে মাখন,বাটার ও ঘি তৈরির সহজ পদ্ধতি ?
দুধ থেকে মাখন,বাটার ও ঘি তৈরির সহজ পদ্ধতি নিয়ে আর নয় দুশ্চিন্তা ? খুব সহজে
অল্প সময়ে ঘরে বসে নিজেই বানিয়ে নিন। বিশেষ পদ্ধতিতে মাখন বাটার ও ঘি সংরক্ষণ
করুন যা থাকবে নতুনের মতন টাটকা সুস্বাদু এবং নষ্ট হওয়ার চিন্তা নাই।
দুইটি নিয়মে দুধ থেকে মাখন তোলা যায়। বাজার থেকে ভেজালযুক্ত মাখন , বাটার ও ঘি
না কিনে আপনি নিজেই মাত্র ৩০ মিনিটেই একসাথে তিনটি জিনিস বানিয়ে নিতে পারবেন ঘরে
বসে।
পেজ সূচিপত্রঃ দুধ থেকে মাখন,বাটার ও ঘি তৈরির সহজ পদ্ধতি
- দুধ থেকে মাখন বাটার ও ঘি তৈরি সহজ পদ্ধতি
- মাখন,বাটার,ঘি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার নিয়ম
- ঘি বানানোর সময় যে সাতটি ভুল কখনোই করা যাবে না
- খাঁটি গাওয়া ঘি চেনার উপায়
- বাচ্চাদের ঘি খাওয়ার নিয়ম
- মাখন বাটার ও ঘি এর দাম
- বাচ্চাদের জন্য ঘি এর উপকারিতা ও অপকারিতা
- গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- মাখন ও ঘি এর মধ্যে যে পার্থক্য
- ওজন কমানো ও ওজন বাড়ানো জন্য পিনাট বাটার খাওয়ার নিয়ম
- সহজে পিনাট বাটার রেসিপি বানানোর নিয়ম
- শেষ কথাঃ দুধ থেকে মাখন,বাটার ও ঘি তৈরির সহজ পদ্ধতি
দুধ থেকে মাখন,বাটার ও ঘি তৈরির সহজ পদ্ধতি
প্রথম নিয়মঃ দুধ থেকে মাখন,বাটার ও ঘি তৈরির সহজ পদ্ধতি হলো যে
প্রথমে আপনি আপনার পরিমান মত গরুর খাটি দুধ নিয়ে নিন। প্রথমে দুধকে ছাকনির
সাহায্যে ভালোভাবে ছেকে নিতে হবে তারপর একটি পাত্রে করে দুধকে দুই থেকে তিন
ঘন্টার জন্য ডিপ ফ্রিজে রেখে দিবেন। ফ্রিজ থেকে বের করা বরফ দুধ কে ভেঙ্গে ছোট
ছোট টুকরো করে নিবেন একটি ব্লেন্ডারে অল্প কিছু পরিমাণে দুধ দিয়ে ব্লেন্ড করতে
থাকুন যতক্ষণ না উপরে মাখন উঠে আসে এইভাবে ব্লেন্ড করার পরে ওপর থেকে মাখনগুলো
তুলে নিন।
দ্বিতীয় নিয়মঃ আমি এক লিটার পরিমাণে দুধ নিয়েছি। ছাকনির
সাহায্যে ভালোভাবে ছেকে নিয়ে দুধটাকে ভালোভাবে জ্বাল করে নিয়েছি। জাল করা
দুধ নরমাল ফ্রিজে এক থেকে দুই ঘন্টা রেখে ঠান্ডা করে নিতে
হবে। ফ্রিজ থেকে বের করে দুধটাকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বাহিরে বের
করে নরমাল ঠান্ডা করে নিয়েছি। একটি বোতল নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যে
বোতলের গায়ে যেন খাছ কাটা খাছ কাটা একটু বেশি থাকে । ১ লিটারের বোতলে
হাফ লিটার দুধ নিয়ে ১০ থেকে ১২ মিনিট ভালোভাবে ঝাঁকালেই দেখবেন উপরে মাখন
উঠেছে। এরপর একটি পাত্রে বোতল থেকে দুধটা ঢেলে উপর থেকে মাখনটা ছাকনির সাহায্যে
থেকে নিবেন।
মাখন গুলোকে ঠান্ডা পানিতে হালকাভাবে ধুয়ে নিয়ে হাতের সাহায্যে হালকা চেপে
পানি ঝরিয়ে নিতে হবে যেন মাখনে কোন পানি না থাকে। একটি বক্স বা বাটিতে মাখন
গুলোকে সুন্দরভাবে চেপে চেপে সমান করে বসাতে হবে। দুই থেকে তিন ঘন্টার
জন্য নরমাল ফ্রিজে রেখে দিন।ফ্রিজ থেকে বের করে দেখবেন মাখনটা সুন্দর বাটার
মতো হয়ে গেছে। বাটার গুলো টুকরো টুকরো করে কেটে নিন। চুলার আঁচ লো হিটে রেখে
একটি পাত্রে বাটার গুলো দিয়ে নাড়তে থাকুন।খেয়াল রাখতে হবে যেন নিচে
পুড়ে না যায়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট জ্বাল করার পরে দেখবেন সুন্দর ঘি তৈরি
হয়েছে।
মাখন,বাটার,ঘি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার নিয়ম
মাখন বাটার ঘি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য সর্বপ্রথম একটি ভালো পাত্র বা বোতল
বাছাই করে নিতে হবে যার মুখ দিয়ে ভেতরে আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারবে না ।
ঘরের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উপরে গেলে মাখন বাটার ঘি ডিপ
ফ্রিজে রেখে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারেন। ফ্রিজে রাখা মাখন বাটার অভি প্রায় এক
বছর ভালো থাকে । খেয়াল রাখবেন পাত্রটির মুখ যেন আটকানো থাকে কারণ মাখন
বাটার ও ঘি খুব তাড়াতাড়ি অন্য খাবারের গন্ধ টেনে নেয় তাই তীব্র
গন্ধযুক্ত (মাছ-মাংস)খাবারের কাছে রাখবেন না। অবশ্যই পাত্র বা বোতলে উপরে
সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখবেন।
ফ্রিজ ছাড়া মাখন বাটার ও ঘি সংরক্ষণ করবেন যেভাবে। মাখন ও বাটার যে পাত্রে
রাখবেন সেই পাত্রটির গায়ে কাপড় ভিজিয়ে পাত্রটি মুড়িয়ে রাখবেন। ঘি সংরক্ষণের
জন্য কাঁচের পাত্র বা স্টিলের জারে ঘি রাখতে হবে। প্লাস্টিকের
কৌটাতে ঘি রাখা যাবে না এতে ঘের পুষ্টি গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাবে।
পাত্রে ঘি তোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন পাত্রটির ভেতরে সম্পূর্ণ শুকনো ও
পরিষ্কার থাকে।
পাত্র থেকে ঘি নেওয়ার সময় ভেজা চামচ ব্যবহার করা যাবে না । ভেজা
চামচ ব্যবহার করলে ঘি এর পাত্রে মধ্যে আদ্রতা ও ব্যাকটেরিয়া
প্রবেশ করে ঘি কে নষ্ট করে ফেলতে পারে। রান্নাঘরে চুলার কাছাকাছি বা
অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আলো যুক্ত স্থানে ঘি রাখবেন না। আলো থেকে দূরে
ঠান্ডা যুক্ত স্থানে ঘি এর পাত্রটি রাখুন । এভাবে তিন মাসের মতো ঘি ভালো ও
ফ্রেশ থাকবে। তিন মাসের বেশি সংরক্ষণ করতে চাইলে ফ্রিজে রাখুন।
ঘি বানানোর সময় যে সাতটি ভুল কখনোই করা যাবে না
- চুলার আঁচ এর তাপমাত্রা বাড়ানো
- ঘি চুলায় বসিয়ে অনবরত নাড়তে না থাকা
- ঘি নামানোর সঠিক সময় বুঝতে না পারা
- সঠিক পাত্র নির্বাচন না করতে পারা
- চুলা থেকে নামিয়ে সরাসরি ঘি প্লাস্টিকের বোতলে রাখা
- ভেজা পাত্রে ঘি সংরক্ষণ করা এবং ঘি পাত্র থেকে নেওয়ার সময় ভেজা চামচ ব্যবহার করা
- পানি পানি থাকা অবস্থায় চুলা থেকে ঘি নামানো
খাঁটি গাওয়া ঘি চেনার উপায়
খাঁটি গাওয়া ঘি চেনার সব থেকে সহজ উপায় হলো এক চামচ ঘি হাতের তালুতে
নিয়ে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড রাখলে শরীরের তাপে পুরোপুরি গলে যায় এবং হাত
মৃসন লাগে । ভেজাল যুক্ত ঘি হাতের তালুতে নিলে গলতে দিয়েই হয় এবং হাতে তেল
চিটচিটে তৈলাক্ত হয়। খাঁটি গাওয়া ঘি এর এক প্রাকৃতিক সুগন্ধ ও মিষ্টি ভাব থাকে।
যা কেমিক্যাল যুক্ত ভেজাল ঘি তে থাকে না।
খাঁটি গাওয়া ঘি গরম করাইতে দিয়ে জ্বাল দিলে সুন্দর মিষ্টি সুগন্ধ ছড়ায়।
অন্যথায় কেমিক্যাল যুক্ত ভেজাল ঘি গরম করাইতে দিলে কেমিক্যালের তীব্র বাজে
গন্ধ বের হয়। আবার খাঁটি ঘি এর বোতল গরম পানিতে রাখলে তা অল্প সময়ে
গলে যাবে ও ভেজালযুক্ত ঘি গলতে সময় নিবে বেশি। খাঁটি গাওয়া ঘি ফ্রিজে রাখলে
সুন্দর ভাবে জমাট বাধে।ভেজালযুক্ত ঘি ফ্রিজে রাখলে ডালডা বা তেল আলাদা আলাদা
লেয়ার জমাট বাধে।
খাঁটি গাওয়া ঘি এর রং হালকা সোনালি বা হলদে সোনালি হয়। ভেজালযুক্ত ঘি এর রং হলুদ
বা লালচে হলুদ হয়।খাঁটি গাওয়া ঘি এর ঘনত্ব ছোট ছোট দানাযুক্ত হয়।এক গ্লাস পানিতে
এক চামচ গাওয়া ঘি দিয়ে দিন দেখবেন ঘি পানির উপরে ভাসতেছে ।ভেজালযুক্ত ঘি পানির
সাথে মিশে যাবে।
বাচ্চাদের ঘি খাওয়ার নিয়ম
বাচ্চার বয়স যখন ৬মাস পাড় হয় ও বাচ্চাটা আমিষ জাতীয় ও খাবার খাওয়া শুরু করে তখন
থেকে বাচ্চাকে ঘি খাওয়ানো যায়। ৬ মাস থেকে ১ বছরের বাচ্চাকে ৫ মিলি পর্যন্ত ঘি
দেওয়া যেতে পারে ।১ থেকে ২ বছরের বাচ্চাকে এক চা চামচ বা ১০ মিলি ঘি দেওয়া যেতে
পারে।বাচ্চাকে কখন শুধু খালি ঘি খাওয়াবেন না ।
যে কোনো সবজি খাবার যেমন ভাত, আলু, খিচুরি,সবজি নরম করে রান্না করে ঘি দিয়ে চটকে
মিশিয়ে হালকা গরম থাকতে খাওয়াবেন। অতিরিক্ত বেশি ঘি বাচ্চাকে খাওয়াবেন না ।
অতিরিক্ত ঘি খাওয়ালে বাচ্চার বদহজ,গ্যাস, ওজন বৃদ্ধিতে সম্যসা হতে পারে।প্রথম
অবস্থায় বাচ্চাকে খুব সামান্য পরিমান ঘি দিয়ে দেখতে হবে যে পেটে বা এলার্জির কোনো
সম্যসা হয় না কি । বাচ্চার বয়স অনুযায়ী সঠিক পরিমান ঘি দিতে হবে।
মাখন বাটার ও ঘি এর দাম
বর্তমানে মাখন বাটার ও ঘি এর বাজার মূল্য ভিন্নতা আছে। হাতে তৈরি
হোমমেড বা ব্র্যান্ডের মাখন বাটার ও ঘি এর বাজার মূল্য আলাদা আলাদা।সাধারণত ৫০০
গ্রাম হোমমেড ও ব্র্যান্ডের মাখন এর মূল্য প্রায় ৫৫০ থেকে ৯৫০ পর্যন্ত। এক কেজি
হোমমেড ও ব্র্যান্ডের মাখনের মূল্য প্রায় ১১০০ থেকে ১৫০০।
ব্র্যান্ডের বাটারের বাণিজ্যিক মূল্য হলো 500 গ্রাম বাটারের মূল্য ৫৫০ থেকে
৮৫০। এক কেজি বাটারের মূল্য প্রায় ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। ব্র্যান্ডের পিওর খাঁটি
ঘি এর মূল্য। ৫০০ গ্রাম জি এর মূল্য ৭৩০ টাকা থেকে ৯৮০ টাকা। ১ কেজি ঘি এর
মূল্য প্রায় ১৪৫০ টাকা থেকে ১৯৫০ টাকা। ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলের
বা সিরাজগঞ্জের এক কেজি খাটি গাওয়া ঘিয়ের মূল্য প্রায় ১৪০০ থেকে
১৭০০ পর্যন্ত।
বাচ্চাদের জন্য ঘি এর উপকারিতা ও অপকারিতা
প্রথমেই আসি আমরা বাচ্চার মস্তিষ্ক নিয়ে। ঘি তে থাকা ওমেগা-৩
ফ্যাটি অ্যাসিড যা বাচ্চার মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটায় ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি
করে। বাচ্চার ব্রেন কে করে এক্টিভ এবং বাচ্চাকে করে তোলে আর সাধারণ
পাঁচটা বাচ্চার থেকে বেশি বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী। ঘি তে থাকা প্রচুর
পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট , ভিটামিন (এ
, ডি ,ই, কে) বিউটারিক অ্যাসিড। যা বাচ্চার গ্রোথের ও প্রয়োজনীয়
ক্যালোরি পূরণ করে বাচ্চাকে সুস্থ ওজন বাড়তে সাহায্য করে ।
শৈশবকালে বাচ্চার দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।বাড়িতে তৈরি করা বা
হোমমেড ঘি প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ হওয়ায় খুবই উপকারী।ঘি তে
থাকা বিউটারিক অ্যাসিড পাকস্থলীর স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং হজমে সাহায্য করে।
ঘি নিয়মমিত খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বাচ্চাকে রাখে
সুস্থ ও ভালো। ঘি তে থাকা ভিটামিন কে ও ডি বাচ্চার হারকে করে
মজবুত ও শক্ত এবং হারকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে।
বাচ্চাকে প্রয়োজনের থেকে অতিরিক্ত ঘি খাওয়ালে বাচ্চার শারীরিক ওজন দ্রুত বৃদ্ধি
পাবে । অতিরিক্ত ঘি খাওয়ার ফলে বাচ্চার গ্যাসের সমস্যা বা বদহজম হবে এবং
ডায়রিয়া হতে পারে। অনেক বাচ্চার দুগ্ধ জাতীয় খাবারে এলার্জি থাকে যার ফলে বমি
করতে পারে। বাজারের ভেজালযুক্ত কেমিক্যাল দেওয়া ঘি বাচ্চার জন্য ক্ষতি কারক।
গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
গর্ভাবস্থায় ঘি খেলে মা এবং শিশু দুজনেই পুষ্টি পায়। সাধারণ অবস্থা থেকে
গর্ভাবস্থায় বেশি পুষ্টি ও ক্যালরির প্রয়োজন হয়। গর্ভাবস্থায় ঘি খেলে শরীরের
ক্লান্তি দূর হয় ও প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। মাতৃগর্ভে থাকা শিশু ব্রেনের
বিকাশ ভালো হয় এবং শিশুর শারীরিক গ্রোথ ভালো হয়। মা যদি সুস্থ হয়
তবে সন্তানও সুস্থ থাকবে।
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ঘি খেলে শারীরিকভাবে ওজন বৃদ্ধি পাবে এবং কোলেস্টরলের
এর মাত্রা বাড়বে । যদি এলার্জি সমস্যা থাকে বা অন্য কোন সমস্যা থাকে তাহলে
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় ঘি খাওয়া উচিত নয়। ডাক্তারের
পরামর্শ নিয়ে পরিমাণ মতো ঘি খেতে হবে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত
কোন কিছুই ভালো নয়।
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ঘি খেলে নরমাল ডেলিভারিতে সমস্যা হয় অতিরিক্ত ওজনের
জন্য নরমাল ডেলিভারিতে জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ঘি
খাওয়ার কারণে হজমের সমস্যা হয় এবং গ্যাস বাড়তে পারে ও বুক জ্বালাপোড়া
করে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের অতিরিক্ত ঘি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের ঘি খাওয়া উচিত ।
মাখন ও ঘি এর মধ্যে যে পার্থক্য
মাখন ও ঘি তৈরির পার্থক্যঃ দুধ থেকে সরাসরি প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মাখন
তৈরি হয়। অন্যদিকে মাখনকে জ্বাল দিয়ে তার মধ্য থেকে পানির অংশ
একেবারে শুকিয়ে ঘি তৈরি করা হয়।
মাখন ও ঘি এর মধ্যে আদ্রতার পার্থক্যঃ মাখন থাকে প্রায় ১৫/১৭% পানি ও
দুধের প্রোটিন ল্যাকটোজ এর আদ্রতা থাকে। অপরদিকে ঘি এ কোন পানি
আদ্রতা থাকে না ঘি এ থাকে শতভাগ চর্বি ও ফ্যাট থাকে ।
মাখন ও ঘি সংরক্ষণের পার্থক্যঃ মাখন আদ্রতা থাকার কারণে মাখনকে সাধারণভাবে
সংরক্ষণ করা যায় না মাখনকে দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য ডিপ ফ্রিজে রাখতে হয়
আর ব্যবহার করার জন্য নরমাল ফ্রিজে রেখে আপনি ব্যবহার করতে পারেন। অপরদিকে ঘি এর
মধ্যে কোন আদ্রতা ও পানি না থাকায় সাধারণভাবে ঘি কে প্রায় তিন থেকে চার মাস
সংরক্ষণ করা যায়। কোন রকম দুর্গন্ধ ও নষ্ট হয় না । তিন মাসের অধিক ঘি সংরক্ষণ
করতে চাইলে অবশ্যই ঘি কে ডিপ ফ্রিজে বা নরমাল ফ্রিজে রাখতে হবে।
ওজন কমানো ও ওজন বাড়ানো জন্য পিনাট বাটার খাওয়ার নিয়ম
ওজন কমানোর জন্য পিনাট বাটার খাওয়ার নিয়ম হলো দিনে এক থেকে দুই চামচ
পিনাট বাটার খাবেন। অতিরিক্ত পিনাট বাটার খেলে আপনার ক্যালরি বেড়ে যাবে এবং ওজন
না কমে বৃদ্ধি পাবে তাই পরিমাণ মতো পিনাট বাটার খাবেন। সকালে নাস্তার আগে
বা গমের রুটি , কলা, ও হালকা যেকোনো নাস্তার সাথে পিনাট বাটার
খাবেন এবং এটাদীর্ঘ ক্ষণ আপনার পেট ভরা রাখবে। নিয়মিত এভাবে খেলে
দ্রুত আপনার ওজন কমে যাবে আশা করা যায়।
ওজন বাড়ানোর জন্য পিনাট বাটার খাওয়ার নিয়ম হলো প্রতিদিন সকালে খাবার
আগে বা ব্যায়ামের আগে পরে রাতে ঘুমানোর আগে আপনি পাঁচ থেকে ছয় চামচ পিনাট বাটার
খেতে পারেন। ক্যালরি যুক্ত যে কোনো খাবারের সঙ্গে আপনি এই পিনাট বাটার খেলে আরো
বেশি উপকৃত হবেন ।পিনাট বাটার আপনার শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরির চাহিদা পূরণ
করে আপনার ওজনকে তাড়াতাড়ি বাড়তে সাহায্য করবে।
অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না তাহলে এটি আপনার স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে
পারে। যদি এলার্জি থাকে তাহলে পিনাট বাটার খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে
পরামর্শ করে নিবেন। আপনি ওজন কমাবেন না ওজন বাড়াবেন তা আমাকে বললে আমি
আপনাকে বলতে পারি যে কতটুকু পরিমানে পিনাট বাটার খাওয়া ভালো আপনার জন্য।
খুব সহজে পিনাট বাটার রেসিপি বানানোর নিয়ম
পিনাট বাটার বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ হলো
- চিনা বাদাম বা কাঠবাদাম
- মধু বা চিনি
- তেল
- লবণ
পিনাট বাটার বানানোর রেসিপিঃ প্রথমে এক কাপ পরিমাণে চীনা বাদাম
নিয়ে ভালোভাবে ভেজে নিন, ভাজা বাদাম গুলো ব্লেন্ডারের সাহায্যে গুঁড়ো
করে নিন। গুড়ো করা বাদামের সাথে এক চামচ মধুমা চিনি মিশিয়ে নিন এরপর
এক চা চামচ তেল দিন যে কোন তেল দিলেই হবে স্বাদমতো লবণ দিন এক চিমটি। এবার
ব্লেন্ডারের উপকরণগুলো দিয়ে পাঁচ মিনিটের মতো ব্লেন্ড করে নিন দেখবেন খুব
সহজেই পিনাট বাটার তৈরি হয়ে গেছে।
পিনাট বাটার আপনি তিন থেকে চার মাস ফ্রিজে রেখে সংরক্ষণ করতে পারেন। সকালের
নাস্তায় পিনাট বাটার ব্যবহার করে পরিবারের সবাইকে নাস্তা দিতে পারেন। পিনাট
বাটার প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় এটি আপনার পরিবারের সবার স্বাস্থ্যর
জন্য উপকারী।
শেষ কথাঃ দুধ থেকে মাখন,বাটার ও ঘি তৈরির সহজ পদ্ধতি
দূর থেকে মাখন, বাটার ও ঘি তৈরির সহজ পদ্ধতিতে নিজেই ঘরে বসে মাত্র ৩০ মিনিটের
বানিয়ে নিন স্বাস্থ্যসম্মত তিন রকমের খাবার। যা আপনার দৈনন্দ জীবনের প্রয়োজন।
বাজার থেকে চড়া দামে ভেজাল যুক্ত মাখন, বাটার, ঘি না কিনে নিজে বানিয়ে
পরিবার ও নিজের স্বাস্থ্য প্রতি সচেতন।
সুস্থ শরীর একজন মানুষের সব থেকে বড় সম্পদ। আপনি একদিন ৩০ মিনিট সময়
দিয়ে মাখন, বাটার ও ঘি বানালে তিন থেকে চার মাস আপনার মূল্যবান
সময় বাঁচবে। যারা কর্মজীবী তারা এই পদ্ধতিতে মাখন বাটার ও ঘি বানালে তাদের
পরিশ্রম কম হবে ও সময় কম লাগবে। এই ধরনের আরো রেসিপি জানতে কনাজোন
সাথেই থাকুন।


কনাজোননীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url