বাচ্চাদের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়

 

বাচ্চাদের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায় হলো সর্বপ্রথম ঘরকে ধুলাবালি ও জীবাণু থেকে পরিষ্কার রাখা এবং বাচ্চার যে খাবারে এলার্জি সেই খাবার না দেওয়া ও এলার্জির উৎস থেকে শিশুকে দূরে রাখা ।
বাচ্চাদের-এলার্জি-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়

প্রতিটা মায়ের কাছে তার শিশু সন্তানটি হচ্ছে তার প্রাণ। সন্তানের যদি এলার্জি থাকে তাহলে সর্বপ্রথম মা কে সচেতন হতে হবে। একজন সচেতন মা পারে তার সন্তানকে সুস্থ ও ভালো রাখতে। তাই বাচ্চাদের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায় গুলো যদি মেনে চলি তাহলে আপনার সন্তানটি ভালো থাকবে এবং খুব কম অসুস্থ হবে। 

পেজ সূচিপত্রঃ বাচ্চাদের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়।

বাচ্চাদের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়

বাচ্চাদের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায় এর মধ্যে সর্বপ্রথম হলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা।শিশুদের থাকার জায়গা পোশাক সব সময় পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখুন। প্রতি সপ্তাহে শিশুদের বিছানার চাদর বালিশের কাভার ও শিশুদের কাপড় গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং শিশুদের থাকার রুম ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। আপনার সন্তানের কোন জিনিসে এলার্জি বা কি সমস্যা হয় তা নোটিশ করুন বা খেয়াল করুন এবং সেই কাজ থেকে বিরত থাকুন। 

কোন খাবার খেলে শিশুর এলার্জি হয় সেই ধরনের খাবার শিশুকে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাড়াতাড়ি কোন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বাচ্চার ত্বকে এলার্জি বা চুলকানি হলে নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেটে বা পেস্ট করে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন আবার নিমপাতা দিয়ে পানি গরম করে গোসল করাতে পারেন বাচ্চাকে।
আপনার বাসাতে ছ্যাঁতছ্যেতে জায়গা থাকলে সেখানে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া হতে পারে। ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে শরীরে রোগ বাসা বাঁধে ও এলার্জি হতে পারে। তাই আপনার বাড়িকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। একজন সচেতন মানুষ হিসেবে নিজের পরিবারকে সুস্থ ভালো রাখুন।

বাচ্চাদের এলার্জির লক্ষণ ও তার প্রতিকার

বাচ্চাদের এলার্জির লক্ষণ গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম হলো ত্বকে এলার্জি লালচে লালচে ভাব, চুলকানি একজিমার মত শুষ্ক ও খসখসে চুলকানি । শ্বাসনালী সমস্যা যেমন ঘন ঘন হাঁচি, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট নাক দিয়ে পানি পড়া । পাকস্থলীর সমস্যা এলার্জি তাদের হয় বিশেষ করে যাদের খাদ্য এলার্জি যেমন পেট ব্যথা , বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া । চোখের সমস্যা এলার্জির লক্ষণ হল চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং চোখে প্রচুর পরিমাণে চুলকানি হয়।

এলার্জির প্রতিকার এর মধ্যে সর্বপ্রথম হলো যে পরিবেশ আপনার শরীরের সাথে ম্যাচ হবে না এবং আপনার এলার্জির সমস্যা হবে সেই পরিবেশ থেকে দূরে থাকতে হবে। যেমন সেই পরিবেশের নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা যেখান থেকে আপনার এলার্জি হয় তা চিহ্নিত করে শিশুকে তার থেকে দূরে রাখুন।

যে সকল খাবার থেকে এলার্জি সমস্যা হতে পারে তার মধ্যে সর্ব প্রথম হলো গরুর মাংস, হাঁসের মাংস মসুর ডাল হাঁসের ডিম মিষ্টি কুমড়া পুঁইশাক এই ধরনের খাবার এর মধ্যে কোন খাবার খেলে আপনার বাচ্চার এলার্জির সমস্যা বেশি হয় সেই খাবার সেই খাবার চিহ্নিত করে সেই খাবার থেকে শিশুকে বিরত রাখুন।

বাচ্চাদের এলার্জি হলে যে খাবারগুলো দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন

বাচ্চাদের এলার্জি হলে যে খাবারগুলো দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন তার প্রথম খাবার গুলোর দুই ভাগে বিভক্ত। যেমন এক নাম্বার হলোঃ প্রোটিন বা আমিষ জাতীয় খাবার গুলোর মধ্যে আছে গরুর মাংস, গরুর দুধ , হাঁসের মাংস, খাসির মাংস, হাঁসের ডিম, চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ, সামুদ্রিক কাঁকড়া ও শেলফিশ, অক্টোপাস আপনার বাচ্চার যে নির্দিষ্ট একটি খাবার খেলে এলার্জি হয় সেই খাবারটি বাচ্চাকে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
বাচ্চাদের-এলার্জি-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়

দুই নাম্বার হলো শাকসবজি ও ফল জাতীয় খাবার এর মধ্যে যে খাবারগুলো খেলে আমাদের শরীরে সবথেকে বেশি এলার্জি হয় তা হলো বেগুন, পুঁইশাক, কচুর লতি, মিষ্টি কুমড়া, মসুর ডাল, পালং শাক, কলা, বাদাম, গাজর এই সবজি জাতীয় খাবারগুলো খেলে সব থেকে বেশি এলার্জি হয়।আপনার বাচ্চার এলার্জির মাত্রা যদি বেশি হয় তবে সাথে সাথে আশেপাশের কোন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়ান এবং আপনার বাচ্চার খাবার প্রতি সচেতন হন যেন এলার্জি না হয়।

বাজার থেকে কেনা খাবারেও শিশুর এলার্জি হতে পারে তাই সাবধান। বাজারে পাওয়া যায় এমন অনেক কেক আছে যার মধ্যে হাসির ডিম থাকে। বিস্কিট ও অধিক পরিমাণের চকলেট এসব থেকেও আপনার বাচ্চার এলার্জি হতে পারে। বাজারের পণ্য কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে দেখে নেবেন যে কি কি উপাদান দিয়ে খাবার তৈরি করা হয়েছে এলার্জি জাতীয় খাবার থাকলে তা এড়িয়ে চলুন।

ত্বকের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়

ত্বকের এলার্জি দূর করার জন্য ঘরোয়া উপায় এর মধ্যে সর্বপ্রথম ও কার্যকারী টিপস হলো ঠান্ডা সেঁক, নারকেল তেল, এলোভেরা জেল, নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ এর ব্যবহার। ঠান্ডা সেঁক দিবেন যেভাবে তা হল  বরফ বা ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় নিয়ে এলার্জির আক্রান্ত স্থানে 5 থেকে 10 মিনিট করে ধরে রাখুন এটি আপনার রক্তনালী সংকুচিত করে আপনার ত্বকের জ্বালা ভাব ও চুলকানি এবং খোলা কমাতে সাহায্য করবে আপনাকে দিবে দ্রুত আরাম।

খাঁটি নারিকেল তেল দিনে ১ থেকে ২ বার আপনার আক্রান্ত স্থানে মালিশ করুন । নারিকেল তেল আপনার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে ও শুষ্কতা দূর করে প্রাকৃতিকভাবে। টাটকা সতেজ ও অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল সংগ্রহ করে সরাসরি এলার্জির আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন এটি আপনার ত্বকের লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া কমাবে অ্যালোভেরা পাতাতে আছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি।
টাটকা সতেজ ও তাজা নিমপাতা এবং কাঁচা হলুদ একসাথে নিয়ে বেটে বা পেস্ট তৈরি করে ত্বকের আক্রান্ত স্থানে লাগান এবং ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রাখার পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বকের চুলকানি কমাতে সাহায্য করবে।

চুলকানি থেকে চিরতরে মুক্তির উপায় 

চুলকানি থেকে চিরতরে স্থায়ীভাবে মুক্তির জন্য , চুলকানির মূল কারণ চিহ্নিত করে ত্বকের সঠিক যত্ন ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন না এতে আপনার শরীরে আরো বেশি চুলকানি হবে। হাতের নখ ছোট রাখুন কারণ নখের মধ্যে অনেক জীবাণু থাকে যখন আপনি ত্বকে চুলকাবে নখ দিয়ে তখন রথ থেকে গিয়ে ইনফেকশন হতে পারে এবং চুলকানি আরো বাড়তে পারে।

অতিরিক্ত টাইট মোটা পোশাক ও সিল্ক জাতীয় পোশাক পরা থেকে বিরত থাকুন এসব পোশাক আপনার ত্বকে আরো চুলকানি বাড়াতে সাহায্য করবে। তাই সব সময় চেষ্টা করুন সুতির নরম ও ঢিলাঢালা পোশাক পরার। এসব ছোট ছোট বিষয় এর প্রতি সচেতন থাকলে চুলকানি হবে না এবং সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করুন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন আশা করা যায় এতে আপনি চিরতরে চুলকানি থেকে মুক্তি পাবেন।

রক্তে এলার্জির লক্ষণ ও তার প্রতিকার

রাতে এলার্জির লক্ষণগুলোর প্রথমে যা আমাদের সামনে আসে তা হল ত্বকের সমস্যা আর ত্বকের সমস্যায় দেখা দিবে লালচে দাগ ও চাকা চাকা দাগ তীব্র চুলকানি সাথে ছোট ছোট গোটা বের হয়। শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিবে যে ঘন ঘন হাঁচি হওয়া অধিক পরিমাণে নাক দিয়ে পানি ঝরা ও সর্দি কাশি হবে।
বাচ্চাদের-এলার্জি-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়

চোখের সমসায় দেখা দিবে যে চোখ প্রচুর পরিমাণে লাল হয়ে যাওয়া ,চোখ চুলকাবে অনেক, চোখ দিয়ে পানি পড়া ও চোখে ঝাপসা দেখা। রক্তে এলার্জি থাকলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হবে যেমন গলা মুখ ফুলে যাবে অনেক এবং শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হবে।

রাতে এলার্জির প্রতিকার হলো যে খাবার থেকে এলার্জি সেই খাবার না খাওয়া এবং ধুলাবালি ও নির্দিষ্ট যে কারণে এলার্জি হয় তা এড়িয়ে চলা। নিজের পোশাক রুম ও বাড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা  নোংরা না রাখা। ত্বকের যত্নের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ক্রিম বা মশ্চারাইজ ব্যবহার করা। অতিরিক্ত এলার্জি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এলার্জির ঔষধ সেবন করতে হবে।

বাচ্চাদের এলার্জি দূর করার জন্য সাবান বা লোশন ব্যবহারের নিয়ম

বাচ্চাদের ত্বক  খুব নরম ও সফট থাকে অধিক সুগন্ধি যুক্ত সাবান বা লোশন ব্যবহার করা যাবে না। বেবি ক্লিনজার বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করুন যাতে সুগন্ধি ও ক্ষারক কম থাকে তা খেয়াল রাখতে হবে। 
অতিরিক্ত ক্ষার জাতীয় সাবান দিয়ে শিশুকে গোসল করালে শিশুর ত্বকের ক্ষতি হয় ও এলার্জির সমস্যা হয়। শিশুকে প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল করানো যাবে না সপ্তাহে তিনদিন সাবান ব্যবহার করবেন বাকি তিন দিন হালকা কুসুম গরম পানির সাথে দুই থেকে এক ফোটা স্যাভলন দিয়ে গোসল করাবেন।

শিশুর গোসল শেষে হালকা ভেজা ও ঠান্ডা ত্বকে ভালো মানের লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করুন। শিশুর ত্বক যদি বেশি শুষ্ক হয় তবে দিনে দুই থেকে তিন বার লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করুন এতে শিশুর শরীরে আদ্রতা ধরে রাখে ও শুষ্ক দেখায় না। বেশি সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে শিশুর জন্য সাবান বা লোশন বাছাই করে নিতে হবে যা শিশুর এলার্জির সমস্যা সমাধান করবে।

শেষ কথাঃ বাচ্চার এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়

প্রতিটা মা তার সন্তানকে সুস্থ ও ভালো রাখতে চায়। এলার্জি এমন একটা সমস্যা বা রোগ যা একবারে প্রতিরোধ করা যায় না কিন্তু নিয়ম মেনে চললে এলার্জির সমস্যা কম হয়। আপনি যদি সচেতন হন তবে ঘরোয়া উপায়ে নিয়মগুলো মেনে চললে এলার্জির সমস্যা আশা করা যায় হবে না আর। আমি নিজেও এই ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চলি ইনশাআল্লাহ এলার্জির সমস্যা খুবই কম হয় আমার।

উপরোক্ত আলোচনায় কোন ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং আমাকে  বলবেন আমি তা সংশোধন করে নেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। আপনার বাচ্চার নির্দিষ্ট কোন কারণ থেকে এলার্জি হয় এবং এলার্জি দেখতে কেমন আমাকে জানালে  আমি আপনাকে বিস্তারিত জানতে সাহায্য করব যে কি ধরনের এলার্জি। এলার্জির মাত্রা বেশি পরিমাণে হলে ভালো কোন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে বাচ্চাকে ঔষধ খাওয়ান।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

কনাজোননীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url