আয়ুর্বেদিক তেল বানানোর নিয়ম
আয়ুর্বেদিক তেলটি খুবই উপকারী যা মাথা ঠান্ডা রাখে চুল পড়া
কমায়, স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক ভালো রাখে, যে কোন ব্যথাযুক্ত স্থানে
ম্যাসাজ করলে ব্যথা কমে যায়। আয়ুর্বেদিক তেল নিয়মিত ব্যবহার করলে রাতে
ভালো ঘুম হয়।
আয়ুর্বেদিক তেল বানাতে যে উপাদান গুলো প্রয়োজন তা আপনার আশেপাশে বাজার থেকে অল্প খরচে ক্রয় করতে পারেন। বাজার থেকে কেমিক্যাল যুক্ত তেল না কিনে আপনি ঘরে বসে নিজেই বানিয়ে নেন আয়ুর্বেদিক তেল যা আপনার জন্য খুবই উপকারী একটি তেল। বাজারের কেমিক্যাল তেল ব্যবহার করে নিজের ক্ষতি না করে তাই স্বাস্থ্যসম্মত তেল নিজে বানান এবং ব্যবহার করুন।
পেজ সূচিপত্রঃ আয়ুর্বেদিক তেল বানানোর নিয়ম।
- আয়ুর্বেদিক তেল বানানোর নিয়ম
- আয়ুর্বেদিক তেল সংরক্ষণ
- আয়ুর্বেদিক তেলের উপকারিতা
- আয়ুর্বেদিক তেলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
- আয়ুর্বেদিক তেল কেন ব্যবহার করবেন
- চুলের যত্নে আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহারের নিয়ম
- ত্বকের যত্নে আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহারের নিয়ম
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য।
আয়ুর্বেদিক তেল বানানোর নিয়ম
প্রথমত দরকার প্রয়োজনীয় ভেজষ উপাদান যেমন পরিমাণ মতো নারিকেল তেল সাথে বাদাম বা
তিলের তেল অলিভ অয়েল,আমলকি,বহেরা,হরতোকি,অ্যালোভেরা পাতা,থানকুনি পাত,নিম
পাতা,জবা ফুল,মেথি ও কালোজিরা,লবঙ্গ,দারচিনি,অশ্বগন্ধা,ভূঙ্গরাজ, যষ্টিমধ,
ও সুগন্ধের জন্য গোলাপ ফুলের পাপড়ি।
তেল তৈরির সহজ ধাপ ও নিয়মঃ একটি পাত্রে পরিমাণ মতো নারিকেল তেল নিন। ভেজষ উপাদান
গুলো বেটে পেস্ট তৈরি করে নিন। চুলার আঁচ হিটে রেখে পাত্রটিতে ভেজষ উপাদানের
পেস্ট ও সাথে অল্প কিছু পরিমাণে পানি অ্যাড করে জ্বাল করতে থাকুন এবং নাড়তে
থাকুন যাাতে পুড়ে না যায়।
ভেজষ উপাদানের গুনাগুন পুরোপুরি তেলের সাথে মিশে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা
হওয়ার জন্য কিছুটা সময় রেখে দিন। ঠান্ডা হওয়ার পর পাতলা কাপড় দিয়ে তেল
ভালোভাবে ছেকে নিন। যাতে করে তেলের মধ্যে কোন ভেজষ উপাদান না থাকে।
আয়ুর্বেদিক তেল সংরক্ষণ
আয়ুর্বেদিক তেল সংরক্ষণের জন্য সঠিক পাত্র নির্বাচন করতে হবে। প্লাস্টিকের বদলে
গারো স্বচ্ছ কাচের বোতলে তেল সংরক্ষণ করতে হবে। সংরক্ষণ করা তেল এর বোতলের
সিপি বা ঢাকনা শক্ত করে আটকে রাখুন। যাতে করে বোতলের মধ্যে বাতাস প্রবেশ না করতে
পারে এবং তেল নষ্ট না হয়।
সঠিক জায়গা নির্বাচন করতে হবে তেল রাখার জন্য। রান্না ঘর বা বাহিরের সূর্যের তাপ
এর আলো যুক্ত স্থানে তেল রাখা যাবে না। নিজের রুমে ঠান্ডাযুক্ত স্থানে আলমারি বা
ড্রয়ারে মত জায়গাতে তেল রাখতে হবে।
আরো পড়ুনঃ ফেসবুক পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে করণীয় কি ?
আপনার ঘরে বানানো নিজের হাতের আয়ুর্বেদিক তেল সংরক্ষণের মেয়াদকাল
হলো সাধারণত ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। এর বেশি পুরাতন হলে ব্যবহার
করবেন না আর। তখন তেলটি দুর্গন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং তেলের গুণাগুণ নষ্ট
হয়ে যেতে পারে।
আয়ুর্বেদিক তেলের উপকারিতা
সাধারণত আমাদের সবার চুল পড়ার সমস্যা। চুল পড়া সমস্যার সমাধান করার জন্যই
আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহার করতে হবে। আয়ুর্বেদিক তেলের প্রাকৃতিক পুষ্টি গুনাগুন
সম্পূর্ণ থাকায় চুল পড়া রোধ করে চুলের গোড়া মজবুত করে ও নতুন চুল গজাতে
সাহায্য করে।
আপনার মূল্যবান সময় ও টাকা নষ্ট না করে বাজারে কেমিক্যালযুক্ত তেল না কিনে অল্প
সময়ে অল্প খরচে ঘরে বসে নিজেই বানিয়ে নিন আয়ুর্বেদিক তেল এবং আপনার চুল পড়া
সমস্যা ব্যথা জনিত সমস্যা সমাধান হবে।
বাজারের কেমিক্যাল যুক্ত তেল ব্যবহারের ফলে তেলের মধ্যে থাকা কেমিক্যাল আপনার
শরীরে প্রবেশ করে অনেক বড় ধরনের রোগ হতে পারে । নিজেকে সুস্থ সবল
রাখার জন্য আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহার করা উচিত এরমধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক
পুষ্টি গুনাগুন সম্পূর্ণ।
আয়ুর্বেদিক তেলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
যাদের খুব বেশি পরিমাণে এলার্জি রয়েছে তাদের আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহার না করাই
হতো। আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহার পাশাপাশি যদি বড় কোন ধরনের রোগের ঔষধ সেবন করে
থাকেন এবং তেল ব্যবহার করেন তাহলে কোন সমস্যা হলে তেল ব্যবহার না করাই উত্তম।
আয়ুর্বেদিক তেল চুলে অধিক পরিমাণে ব্যবহার করলে চুল চিকচিটা ও নোংরা হতে
পারে একদিন ব্যবহার করে তিন চার দিন মাথা পরিস্কার না করলে মাথায়
চুলকানি হতে পারে তাই ব্যবহারের পূর্বে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহারের উপযুক্ত সময় হলো রাত। রাতে ঘুমানোর আগে তেল হাতের
আঙ্গুলের ডগায় নিয়ে ধীরে ধীরে মাথায় ম্যাসাজ করুন কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট।
সকালে ঘুম থেকে উঠে শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন।
আরো পড়ুনঃ চোখের নিচে কালো দাগ দূর করার উপায়
দিনে ব্যবহার করলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রাখার পরে শ্যামপুর দিয়ে ভালোভাবে
মাথা পরিষ্কার করুন। ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য সঠিক নিয়মে এবং
নিয়ম মতো আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহার করতে হবে।
আপনি কি তেলটি মাথার চুলে ব্যবহার করতে চান নাকি শরীরের ব্যথা নাশক বা ত্বকের
যত্নে আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহার করতে চান। আপনি নির্দিষ্ট ভাবে জানালে আমি আরও
ভালো পরামর্শ দিতে পারব ইনশাআল্লাহ।
আয়ুর্বেদিক তেল কেন ব্যবহার করবেন
আমাদের সবার প্রিয় হচ্ছে নিজের মাথার চুল ও নিজেকে সুস্থ রাখা। মন ভালো থাকলে
শরীর ভালো থাকে ও শরীর ভালো থাকলে মন ভালো থাকে। নারী পুরুষ সকলের সৌন্দর্যই
তার চুলে। তাই চুলকে সুস্থ সবল রাখার জন্য প্রাকৃতিকভাবে তৈরি আয়ুর্বেদিক
তেল ব্যবহার করা উচিত।
চুলের যত্নে আয়ুর্বেদিক তেলের গুরুত্ব অপরিসীম। আয়ুর্বেদিক তেল প্রাকৃতিকভাবে
তৈরি করা হয় এর জন্য এতে সব পুষ্টিগুণ থাকে। যা আমাদের চুলকে
করে গোড়া থেকে মজবুত স্লিকি ও লম্বা যা একজন নারীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি
করে।
আয়ুর্বেদিক তেল ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা
বাড়ায়। ব্যাথাযুক্ত এই স্থানে যেমন জয়েন্টের ব্যথা
মাংসপেশির ব্যাথায় নিয়মিত সকাল সন্ধ্যায় মালিশ করলে ব্যথা কমে
যাবে ইনশাল্লাহ।
চুলের যত্নে আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহারের নিয়ম
আমাদের সকলের প্রিয় চুলের যত্নের জন্য আমরা কত কিছুই না করি বাজার থেকে দামী
দামী কেমিক্যাল যুক্ত তেল কিনে আনি। কিন্তু সহজেই সব সমস্যার সমাধান আমরা
ঘরে বসেই করতে পারি আয়ুর্বেদিক তেল বানিয়ে।
সপ্তাহে তিনদিন রাতে ঘুমানোর আগে ভালোভাবে মাথায় আয়ুর্বেদিক তেল মেসেজ
করতে হবে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে মাথা পরিষ্কার করতে
হবে। এভাবে একদিন পরপর সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করতে হবে তাহলে ভালো ফলাফল পাওয়া
যাবে ইনশাআল্লাহ।
আরো পড়ুনঃ বাচ্চাদের এলার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায়
তুলে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে এবং পরিষ্কার না করলে চুলের গোড়ায় এক ধরনের
ফাঙ্গাস জন্মায় যা অতিরিক্ত চুল পড়তে সাহায্য করে। তাই আমাদের প্রত্যেকের
উচিত তেল ব্যবহার করার পরে শ্যাম্পু দিয়ে মাথার ত্বক পরিষ্কার করা।
ত্বকের যত্নে আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহারের নিয়ম
ত্বকের যত্নের জন্য আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহার করার পূর্বে ভালো কোন ফেসওয়াশ বা
সাবান দিয়ে আপনার মুখ গলা হাত ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। হাতের তালুতে
চার থেকে পাঁচফোটা আয়ুর্বেদিক তেল নিন। এরপর আপনার ত্বকে হালকাভাবে মাসাজ করুন
আয়ুর্বেদিক তেল আপনার ত্বকে পুষ্টি যোগায় ও আদ্রতা ধরে রাখে।
আয়ুর্বেদিক তেল ত্বকে ব্যবহারের 15 থেকে 20 মিনিট রাখার পর অতিরিক্ত তেল টিস্যু
দিয়ে মুছে ফেলুন এবং সকালে উঠে ফ্রেশ ওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে মুখ হাত গলা ধুয়ে
ফেলুন। আপনার ত্বকের ধরনের অনুযায়ী আয়ুর্বেদিক তেল নির্বাচন করবেন।
যেমন শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো তেল হচ্ছে বাদাম তেল বা তিলের তেল। তৈলাক্ত বা
মিশ্র ত্বকের জন্য ভালো হচ্ছে সূর্যমুখী তেল। দাগ ও উজ্জ্বলতা যুক্ত ত্বকের জন্য
ভালো হচ্ছে কুমকুমাদি তেল।
আয়ুর্বেদিক তেল আপনি চুলে ব্যবহার করতে চান কি না ত্বকে ব্যবহার করতে চান সেই
বিষয় নিয়ে আপনি আমাকে বললে আমি আপনাকে বিস্তারিত জানাবো। আয়ুর্বেদিক
তেল ত্বকে ব্যবহার করার পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আপনার এলার্জি আছে
কিনা।
শেষ কথাঃলেখকের মন্তব্য
আয়ুর্বেদিক তেল নিয়ে এতক্ষণ যা যা বললাম আমি, সবকিছুর সারমর্ম একটাই বাজার থেকে
কেমিক্যালযুক্ত তেল ব্যবহার না করে আপনি প্রাকৃতিক পুষ্টি গুনাগুন সম্পূর্ণ
আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহার করতে পারেন। কেমিক্যাল যুক্ত তেল ব্যবহার করার ফলে আপনার
শরীলে যে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ প্রবেশ করে তা হয়তো আপনি নিজ চোখে দেখতে
পারেন না।
সর্বশেষে একটাই কথা বলব যে আয়ুর্বেদিক তেল আপনার চুল ও ত্বকের যত্নের জন্য খুবই
ভালো হবে। আমি নিজেও আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহার করি। আয়ুর্বেদিক তেল নিয়ে কোন
প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন আমি আপনাকে বিস্তারিত জানাবো।

.webp)
.webp)
কনাজোননীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url